ওজন কমাতে কত কীই-না করছে মানুষ। আমূল বদলে ফেলছে খাওয়ার অভ্যাস। আর সুস্থ থাকতে হলে অতিরিক্ত ওজন অবশ্যই কমাতে হবে। কারণ অতিরিক্ত ওজনের ফলে যে কোনো রোগ সহজে শরীরে বাসা বাঁধে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ জরুরি। ওজন কমাতে হবে ধীরে ধীরে। অল্প সময়ের অতিরিক্ত ওজন কমানো ঠিক নয়। এতে শরীরের ওপর বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে। আর বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে। তাই ছোট্ট কিছু অভ্যাস বদলালেই এ ক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। সকালের তেমনই ৭টি বিষয়ের কথা থাকছে এই আয়োজনে।
১. প্রতিদিন যে পরিমাণ খাবার খাচ্ছেন, তার পরিমাণ কমিয়ে অর্ধেক করে ফেলুন। পুষ্টিবিদ বলেন, ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ প্রতিদিন কম হলেও ৫০০ গ্রাম করে কমাতে হবে। কোন খাবারে কী পরিমাণ ক্যালরি আছে, এ বিষয়ে জানতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। অপর পুষ্টিবিদ বলেন, ওজন কমানোর সময়টায় লোভ করা যাবে না। অতিরিক্ত ক্যালরির খাবার, যেমন পোলাও, বিরিয়ানি—এসব একদম খাওয়া চলবে না। স্বাভাবিক খাবার পরিমাণমতো খেতে হবে।
২. ওজন কমাতে অনেকে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা দিনের একটা নির্দিষ্ট লম্বা সময় ধরে না খেয়ে থাকেন। এতে শরীর পানি ও পুষ্টিশূন্যতায় ভুগতে পারে। তাই এ কাজ করা যাবে না। ওজন কমাতে গিয়ে অসুস্থ হতে না চাইলে শরীরের সমস্ত পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে হবে। ভিটামিন-মিনারেলস ইত্যাদি পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে। আবার এক বেলায় একবারে বেশি খাওয়া যাবে না। অল্প অল্প করে বারবার খেতে হবে।
৩. ওজন কমাতে না জেনেবুঝে কিটো ডায়েট না করাই ভালো। কেননা, এ ধরনের ডায়েটে হঠাৎ ওজন কমে গেলেও তা খুব দ্রুত ফিরে আসে। অনেক সময় দ্বিগুণ হয়েও ফিরে আসে।
৪. জটিল শর্করা, যেমন বীজ, মটর, শস্য ও সবজিজাতীয় খাবার খেতে হবে।
৫. প্রোটিন বাদ দিলে পেশি কমে, ওজন নয়। তাই চর্বিবিহীন প্রোটিন খেতে হবে। এগুলো হলো সামুদ্রিক সাদা মাছ, গ্রিক দই, মটরশুঁটি, মসুর ডাল, চামড়াহীন সাদা মুরগি, চর্বিহীন পনির, টোফু, পিনাট বাটার।
৬. খাবারে তেলের পরিমাণ একদম কমিয়ে ফেলতে হবে। রান্নায় যতটুকু তেল না দিলেই নয়, ঠিক ততটুকুই ব্যবহার করতে হবে।
৭. জোরপূর্বক না খেয়ে শুয়েবসে থেকে সুস্থভাবে ওজন কমানো সম্ভব নয়। তাই শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত মেদ ক্ষয় করতে প্রতিদিন অল্প হলেও ব্যায়াম করতে হবে।
স্বাস্থ্যই সম্পদ। অতিরিক্ত ওজন যেমন কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, তেমন ডেকে আনে রোগব্যাধি। তাই খেতে হবে নিয়ম মেনে।


